শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, দেশের বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো দ্রুত পুনরায় চালু করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, এই পুনরুজ্জীবনের কাজের মূল লক্ষ্য হবে আখচাষি, শ্রমিক এবং প্রতিষ্ঠান—এই তিন পক্ষের দীর্ঘমেয়াদি লাভজনক পরিচালনা নিশ্চিত করা। জাতীয় সম্পদ হিসেবে এই মিলগুলোর সৎ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের দায়বদ্ধতা বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শনিবার দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল কারখানার কার্যক্রমকেন্দ্রে আখচাষিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী এ কথা জানান। তিনি বলেন, আমরা চাই বন্ধ মিলগুলো আবার উৎপাদনে ফিরুক, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুক এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গতিশীলতা নিয়ে আসুক।
শিল্পমন্ত্রী আরও জানান, দেশের বেশ কয়েকটি চিনিকল এখন বন্ধ রয়েছে, আর চালু থাকা অনেক মিল নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করছে। অধিকাংশ মিলের বয়স ৫০ থেকে ৭০ বছর পেরিয়ে গেছে। তাই আধুনিকায়ন, সংস্কার এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজন ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যকর পুনরুজ্জীবন সম্ভব নয়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, কিছু মিলের ক্ষেত্রে সরাসরি অবকাঠামো ঠিক করার প্রয়োজন আছে—যেমন ছাদ বা ঢাকনা ঠিক না থাকলে বৃষ্টিতে উৎপাদিত শরবত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কিছু মিলকে নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন করে চালু করা হবে, কোথাও গভীর অবকাঠামোগত সংস্কার দরকার, আবার কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিকল্প পরিকল্পনাও বিবেচনায় আনা হবে। কোন সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন আখচাষিদের স্বার্থ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘমেয়াদি লাভজনকতা অগ্রাধিকার পাবে বলেও তিনি নিশ্চয়তা দেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, কোনো একটি শিল্পকারখানা সচল থাকলে শুধু সরাসরি কর্মী নয়, তার সঙ্গে যুক্ত বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আরও অনেকে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। ফলে বন্ধ মিলগুলো পুনরায় সচল করা দেশের অর্থনীতিকে প্রাণবন্ত করবে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে সহায়তা করবে। তিনি যোগ করেন, কর্মসংস্থান বাড়লে মানুষের হাতে নগদ প্রবাহ বাড়বে, স্থানীয় ব্যবসা ফিরিয়ে আনবে এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি চাঙ্গা হবে—এই লক্ষ্য নিয়েই সরকার শিল্প পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি)-এর চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নওশাদ জমির, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক তৌহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন, পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতিকুজ্জামানসহ আখচাষি প্রতিনিধি, শ্রমিক নেতারা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সভা শেষে চিনিকলের শ্রমিক ও আখচাষিরা প্রধানমন্ত্রী বরাবর বন্ধ চিনিকল চালুর দাবিসহ একটি স্মারকলিপি বাণিজ্যমন্ত্রীর হাতে প্রদান করেন।






