রেড স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত বিজয় দিবস প্যারেডে ভাষণে ইউক্রেন যুদ্ধের ‘ন্যায়সংগত’তার দাবিতে পুনরায় জোর দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে তিনি পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন এবং বলেন, ন্যাটো ইউক্রেনকে অস্ত্র ও অর্থের মাধ্যমে সমর্থন করছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের জয়ের ৮১তম বার্ষিকীতে এই প্যারেডটি আয়োজন করা হয়। তবে গত বছরের তুলনায় এবারের আয়োজনটি ছিল অত্যন্ত সীমিত ও গোপনীয়তার মধ্যে। নিরাপত্তা আশঙ্কার কারণে দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের মধ্যে মস্কোর রেড স্কোয়ারে কোনো সাঁজোয়া যান, ভারী ট্যাংক বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়নি, বলে জানিয়েছে বিবিসি।
রুশ প্রশাসন সূত্রে বলা হয়েছে, ইউক্রেন থেকে দীর্ঘপাল্লার ড্রোন হামলার আশঙ্কা, এছাড়া সম্মুখসমরে রুশ সেনাদের ব্যস্ততা—এসব কারণে বহুগুণ অস্ত্র দেখানো হয় নি। ওই দিন মস্কো জুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্কও সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়েছিল। রুশ এমপি ইয়েভজেনি পপভ মন্তব্য করেন, “আমাদের ট্যাংকগুলো এখন ফ্রন্টলাইনে বেশি প্রয়োজন; রেড স্কোয়ারের নয়।”
প্যারেডে উপস্থিত শত শত সেনা ও কয়েকজন বিদেশি নেতার সামনে পুতিন বলেন, রাশিয়া একটি ন্যায়সংগত যুদ্ধ লড়ছে এবং দেশের ভবিষ্য্য নির্ধারণের অধিকার রাশিয়ার নাগরিকদেরই রয়েছে। তিনি যুক্তি দেন যে ইউক্রেনকে ন্যাটো ও পশ্চিমা দেশগুলো অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সমর্থন করছে, যার ফলে সংঘাত জটিল হচ্ছে। পুতিন সাবেক বীরদের স্মরণ করে বলেন, বর্তমান সৈন্যরাই তাঁদের উত্তরসূরি এবং তারা ‘বিশেষ সামরিক অভিযানে’ বীরত্ব দেখাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বেলারুশের নেতা আলেক্সান্দার লুকাশেঙ্কো, মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম, উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপতি শাভকাত মিরজিওয়েভ এবং আরও একজন ইউরোপীয় প্রতিনিধি। তবে গত বছর যেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাসহ প্রায় ২৭ জন আন্তর্জাতিক নেতা অংশ নিয়েছিলেন, এবার বিদেশি নেতা ও প্রতিনিধি উপস্থিতি লক্ষণীয়ভাবে কম ছিল।
এই প্যারেডের প্রসঙ্গেই এক সংবাদে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে রাশিয়া ও ইউক্রেন তিন দিনের (৯ থেকে ১১ মে) একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। ঐ সময়ে দুই দেশের মধ্যে এক হাজার করে মোট দুই হাজার বন্দি বিনিময় হওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।
কিন্তু প্যারেড শেষ হওয়ার পরপরই রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে যে ইউক্রেন সেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে; মস্কো এ ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি এবং ইউক্রেনও তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি। সামগ্রিকভাবে, এবারের বিজয় দিবসের আয়োজনে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক উপস্থিতি—সবই এবারের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলন হিসেবে দেখা গেছে।






