প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দল নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য নিজেদের ‘নতুন সংগ্রাম’-এ নামতে হবে। সরকারের সফলতার জন্য দলের সমর্থন ও সমন্বয় অপরিহার্য—বিনা সহযোগিতায় সরকার লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না, যোগ করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘‘আমাদের একটি যুদ্ধ শেষ হয়েছে, এখন আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে—মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা বাস্তবায়ন করা।’’
শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শ্লোগানকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর এসব কথা ছিল।
তারেক রহমান স্মরণ করিয়ে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি হওয়া নির্বাচনে কর্মীরা মাঠে ছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন নির্বাচন কঠিন হবে—সেটা সকলেই অনুভব করেছেন। তবুও মানুষ আমাদের এবং আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতি ব্যাপক সমর্থন দিয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে যা আমরা ইশতেহার হিসেবে ঘোষণা করেছিলাম, তা এখন জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে। নির্বাচন শেষে, বিশেষ করে সরকার গঠন করার পর, এটি সরকারের এবং দেশের জনগণেরই ইশতেহার হয়ে উঠেছে। কারণ দেশে ভোট দেয়া মানুষের প্রায় ৫২ শতাংশ ভোট আমাদের ম্যানিফেস্টোর পক্ষে স্থির করেছে। তাই ম্যানিফেস্টোতে যা যা বলা হয়েছে তা বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগেই আমরা সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমরা এমন একটি দেশ চাই যেখানে শিক্ষার্থীরা সুদৃঢ় ও শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ পাবে, যেখানে নারী-পুরুষ-শিশু সকলেই রাস্তায় নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।
স্বৈরাচার ও ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে আন্দোলনের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় আমাদের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন, গুম ও হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে—সেগুলোই আমাদের এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ গড়তে উদ্বুদ্ধ করেছে যেখানে সবাই বিতর্ক করতে পারবে এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারবে।
তারেক রহমান দলে সতর্কতাসূচক বার্তাও দেন—বর্তমান সরকারকে তিনি ‘বিএনপি সরকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, সরকার আছে, কিন্তু সরকারের সফলতার জন্য বিএনপির সহযোগিতা অপরিহার্য; যদি বিএনপি সহযোগিতা না করে তবে অনেক ক্ষেত্রেই সরকার সফল হতে পারবে না।
এদিনের মতবিনিময় শুরু হয় সকাল পৌনে ১১টায়। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভার সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), সেলিমা রহমান ও এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের পরে এই হলেন চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম মাঠ পর্যায়ের মতবিনিময় সভা।






