“করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ৩১ দফা ও ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে মৌলভীবাজারে এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রিফিংয়ে উপজেলার বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের অগ্রগতি, পরিকল্পনা ও স্থানীয় জনগণের জন্য নেওয়া উদ্যোগগুলো বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়।
বুধবার (১৩ মে) সকালে জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে শহরের জাতীয় মহিলা সংস্থার অডিটোরিয়ামে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রশাসন, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাবেল। তিনি বক্তৃতায় বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে ঘোষিত ইশতেহার এখন সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল দিশানির্দেশ। পাঁচটি প্রধান স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইশতেহারের সফল বাস্তবায়ন বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে নিয়ে যাবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রুবেল মাহমুদ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা তথ্য অফিসার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, জেলায় ইশতেহার বাস্তবায়নের চিত্র সমন্বিতভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্রুত কাজ হাতেও নেয়া হয়েছে। রাজনগর ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার কয়েকটি এলাকায় শীঘ্রই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শুরু হবে; এই কার্ডের মাধ্যমে নারীরা মাসিক ২,৫০০ টাকা ভাতা পাবেন।
কৃষি খাতে আনাগোনায় ২৫,০৪০ জন নিবন্ধিত কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’-এর আওতায় আনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে জুড়ী উপজেলায় কৃষক কার্ডের উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে, যা ক্ষুদ্র ও সীমিত সম্পদের কৃষকদের উপকৃত করবে।
জেলায় জলববস্থাপনায় কাজের কথা তুলে ধরে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ২৬ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। বিশেষত সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নে ৩.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘কাটাগাং’ খাল খনন স্থানীয় কৃষি ও মাছ চাষসহ অর্থনীতিকে জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেছে।
স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য মাসিক সম্মানী এবং ধর্মীয় উৎসবকালীন ভাতা চালু করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
তাছাড়া ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির আওতায় জেলার সাতটি উপজেলায় ১,৩৬০ জন ক্রীড়াবিদ অংশ নিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল সরঞ্জাম সরবরাহ এবং ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগ স্থাপনের কাজও পর্যায়ক্রমে চলমান রয়েছে।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার “জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ বোর্ড” গঠনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে—এও ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা তথ্য অফিসার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় ৫৪টি সিনেমা শো, ২১৮টি মাইকিং ও ১৭টি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের উন্নয়নমূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। উক্ত ব্রিফিংয়ে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






