বয়সের ভারে ক্লান্ত ও দৃষ্টিহীন হয়ে যাওয়া নূরজাহান বেগম দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বপ্না লালন করে আসছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান তারেক রহমানকে একবার দেখার এবং সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেতে। সেই আকাঙ্ক্ষা দীর্ঘ সময় ধরে তার হৃদয়ে বাসা বাঁধা ছিল। গতকাল শনিবার, রাজধানীর শাহজাহানপুরে অনুষ্ঠিত এক জনকল্যাণমূলক অনুষ্ঠানে সেই স্বপ্নের দ্বার খুলে যায়, যখন তিনি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উপস্থিতিতে এসে সরাসরি তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং কথা বলার সুযোগ পান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শাহজাহানপুরে দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এই অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে নূরজাহান বেগম প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে আসেন। যদিও তিনি চোখে দেখতে পারেন না, তবে উপস্থিতির অনুভূতি তিনি গায়ে মনে করতেন। সেই মুহূর্তে তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে দেখে তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
সাক্ষাতের সময়, তারেক রহমান আন্তরিকতার সঙ্গে বৃদ্ধার সাথে কথা বলেন এবং তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে, এই দৃষ্টিহীন বৃদ্ধার বুকের ভেতর যেন এক বিশাল খুশির ঝড় ওঠে। তিনি জানান, তার দীর্ঘ দিন ধরে চাওয়া ছিল এই মহতী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তার স্বপ্নের দেখা পাওয়া। এই উপলক্ষে তিনি প্রধানমন্ত্রীর মাথায় হাত রেখে দোয়া করেন, হৃদয়ঙ্গম করে তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই মানবিক দৃশ্যের কারণে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও কর্মকর্তাদের মাঝে এক গভীর আবেগময় পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
নূরজাহান বেগমের জীবন একান্তই নিঃসঙ্গ ও কষ্টসাধ্য। তাঁর গ্রামের বাড়ি মুঙসীগঞ্জের বিক্রমপুরে। এখন তিনি বৃদ্ধ, তাঁর আর কেউই সঙ্গে নেই— স্বামী ও সন্তান কেউই বেঁচে নেই। চরম দারিদ্র্য ও দৃষ্টিহীনতা সত্ত্বেও, জিয়াউর পরিবার এবং তার নেতৃত্বের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে তিনি তারেক রহমানকে দেখার ইচ্ছা পোষণ করতেন। অবশেষে, আজকের এই মহৎ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সেই স্মৃতি ও আকাঙ্ক্ষার অবসান হলো।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি নিশ্চিত করেছেন, এই ঘটনা দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ও শ্রদ্ধা নির্দেশ করে। একজন দৃষ্টিহীন নাগরিকের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী নিজেও খুব আনন্দিত। এই সাক্ষাৎ শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত ইচ্ছা পূরণের ঘটনা নয়, বরং নেতৃত্বের সঙ্গে সাধারণ মানুষের গভীর আবেগ ও আত্মিক সম্পর্কের এক বিশেষ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।






