গত বছর কানাডার টরন্টোতে আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব সাউথ এশিয়ায় প্রশংসিতভাবে প্রিমিয়ার হওয়া আলোচিত সিনেমা ‘শেকড়’ দেশের প্রেক্ষাগৃহে এখনই মুক্তি পাচ্ছে না। নির্মাতা প্রসূন রহমান পরিশ্রম করে কোরবানির ঈদে ছবিটির মুক্তির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেছেন।
নির্মাতা জানান, এই সিদ্ধান্ত নিতে প্রধানত দুইটি কারণ বিবেচনায় নিয়েছেন — একদিকে একযোগে অনেক ছবির প্রায় নির্গমণ এবং অন্যদিকে বিশ্বকাপকে ঘিরে দীর্ঘ চলমান ফুটবল উন্মাদনা। তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপ চলাকালীন দর্শকরা মূলত খেলাধুলার মধ্যে মেতে থাকবে, ফলে পরিবারের আবেগ আর সূক্ষ্ম অনুভবের ওপর দাঁড়ানো ‘শেকড়’-এর মতো চলচ্চিত্রটি সঠিকভাবে উপভোগ করা যাবে না। তাই বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই যখন দর্শক মাঠের উত্তেজনা কাটিয়ে সিনেমা হলে ফিরবেন, তখনই বড় পর্দায় মুক্তি দেওয়াই শ্রেষ্ঠ সময় হবে।
প্রসূন রহমান আরও বলেন, সুস্থ প্রতিযোগিতায় তাঁর কোনো অনীহা নেই, কিন্তু একসঙ্গে বহু ছবির সামনে ‘শেকড়’-কে দাঁড় করানো হলে ছবিটির জন্য প্রয়োজনীয় শান্তি ও নিঃশব্দ পরিবেশ ব্যাহত হবে। পরিবারের সঙ্গে গভীর মনোযোগ দিয়ে গল্পটি দেখা সম্ভব হয়—এটাই তার মূল উদ্বেগ। তিনি বিশ্বাস করেন, ঈদের উৎসব ও বিশ্বকাপ মৌসুম শেষ হলে ছবিটির আবেদন ও দর্শক উপস্থিতি আরও বাড়বে।
‘শেকড়’ মূলত মানুষ ও মাটির অনুষঙ্গ, প্রবাসী জীবনের আত্মপরিচয়ের সংকট এবং জন্মভূমি থেকে বিচ্ছিন্নতার যন্ত্রণা নিয়েই নির্মিত। দীর্ঘ সময় পর ফের শেকড়ের তাগিদে ফিরে আসা, সেখানে পেছনে ফেলে যাওয়া প্রিয়জনদের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তোলার মানবিক লড়াই—সবকিছুই সিনেমার কেন্দ্রে রয়েছে। প্রসূন রহমানের শিল্পীচর্চা আর সংবেদশীল নির্মাণশৈলী পরিচালিত প্রাসঙ্গিক এই গল্প আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইতোমধ্যে সমাদর পেয়েছে।
চলচ্চিত্রটিতে প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় জুটি বাঁধেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা এফ এস নাঈম ও আইশা খান, তাঁদের সাবলীল অভিনয় দর্শকদের জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা হিসেবে আলোচিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এছাড়া দিলারা জামান, সমু চৌধুরী, সঙ্গীতা চৌধুরী, নাফিস আহমেদ, নাইরুজ সিফাত, রওনক রিপন, ফাতেমাতুজ জোহরা ইভা এবং শিশুশিল্পী মুনতাহা এমিলিয়া সহ একঝাঁক অভিজ্ঞ অভিনেতা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন। নির্মাণসংক্রান্তরা মনে করেন এদের উপস্থিতি ছবিটিকে আরও গ্রহণযোগ্য ও সমৃদ্ধ করবে।
চূড়ান্ত মুক্তির তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি; নির্মাতা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ শেষে পরিস্থিতি অনুকূলে হলে দ্রুত মুক্তির নতুন সূচি প্রকাশ করা হবে। দর্শকরা অপেক্ষা রাখলে ‘শেকড়’-কে বড় পর্দায় গভীরভাবে উপভোগ করার সুযোগ পাবেন—এটাই নির্মাতার প্রত্যাশা।






