লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের হামলা নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করেছেন যে তেল আবিবের এ ধরনের আক্রমণ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এগিয়ে আসা সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি ভেঙে দিতে পারে।
গত রোববার নিজের প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘‘বৈরুতের ওপর হামলা হওয়া উচিত ছিল না, বিশেষ করে এমন একটি সময়ে যখন আমরা ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তির এত কাছাকাছি আছি।’’ তিনি যোগ করেন, ইস্রায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার স্বীকারযোগ্য হলেও, যে জবাবটি দেওয়া হয়েছে তা ‘‘খুবই ছোট ও অর্থহীন’’ এবং এতে কেউ আহত বা নিহতও হয়নি—তাই এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াটি ব্যাহত করা উচিত নয়।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘‘লেবাননের কোথাও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আর কোনো হামলা হওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহ বা অন্য কোনো পক্ষের কাছ থেকেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আর কোন আক্রমণ হওয়া উচিত নয়।’’ তিনি সব পক্ষকে শান্তি প্রক্রিয়া নষ্ট না করতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘এটি একটি দীর্ঘ ও সুন্দর শান্তির সূচনা হতে পারে—আসুন আমরা এটিকে নষ্ট না করি।’’
ট্রাম্পের কথায়, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি চলমান আলোচনার ফলশ্রুতির দিকে ইঙ্গিত আছে এবং এসব হামলা সেই আলোচনাকে বিপর্যস্ত করতে পারে।
কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বৈরুতে হওয়া ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে অবহিত ছিল। অ্যাক্সিওসের বিশ্ব পরিস্থিতি বিষয়ক সংবাদদাতা বারাক রাভিদের বরাতে জানানো হয়েছে, আইডিএফ বৈরুতের দাহিয়েহ জেলায় হামলার কিছুক্ষণ আগে সেন্টকমকে সে বিষয়ে জানায়।
ইরান ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছে যে বৈরুতের ওপর কোনো ইসরায়েলি হামলা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলতি যুদ্ধবিরতি বা আলোচনা লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হবে এবং শান্তি আলোচনা ব্যাহত হতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কোনো রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে আলোচনাগুলোকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইতে পারেন; এর ফলে লেবাননের ওপর হামলা বন্ধে তার তৎপরতা সীমিত হতে পারে।
ট্রাম্প ও অন্যান্য পক্ষের আহ্বানের মধ্যে অন্তর্বর্তী শান্তি প্রক্রিয়াকে অক্ষত রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। বর্তমান উত্তেজনা যাতে একটি কূটনৈতিক জানচুম্বককে নষ্ট না করে, সেটাই এখন সকলের নজরের কেন্দ্রবিন্দু।






