কয়েকদিন ধরে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ ছিল ঢাকার মানুষ। রোববার বিকেলে সেই অস্বস্তির অবশেষ মেটেছে বহুল কাঙ্ক্ষিত এক ঝুমবৃষ্টিতে। মুষলধারে নেমে আসা বৃষ্টির সঙ্গে ঢাকায় তাপমাত্রা কমে গিয়ে সাধারণ মানুষের মুখে স্বস্তির হাসি ফোটায়।
দুপুর গড়িয়ে জাহান নামার পরে বিকেল একটার পর আকাশ ধীরে ধীরে মেঘলা হতে শুরু করে। বিকেল পাঁচটার দিকে হঠাৎ করে কালো মেঘ ঢাকা দিয়ে মুষলধারে ঝড়ো বৃষ্টি নামলে সচিবালয়, ইসলামপুর, নয়াবাজার, বংশাল, পল্টন, শাহবাগ, গুলিস্তান ও উত্তরা সহ শহরের অধিকাংশ এলাকায় একযোগে বৃষ্টির শব্দ শোনা যায়।
ঝুম বৃষ্টিতে রাস্তাঘাটে তাপের কষ্ট লাঘব হওয়ায় সাধারণ মানুষ—বিশেষ করে শ্রমজীবী ও পথচারীরা—সান্ত্বনা পেয়েছেন। যারা কয়েকদিন ধরে গরমে ঘর থেকে বের হতে কষ্ট করছিলেন, তাদের জন্য বৃষ্টির শীতল হাওয়া এক তাজা আয়োজন মনে হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় অনেকেই বৃষ্টির ছবি ও অনুভূতি শেয়ার করে আনন্দ প্রকাশ করছেন।
তবে প্রতিটি বৃষ্টির মতো এ বৃষ্টির সঙ্গে কিছু অসুবিধাও হয়েছে। হঠাৎ নামা বৃষ্টিতে ফুটপাতের আটানো ব্যবসায়ীগণ এবং পথচারীরা আপৎকালীনভাবে ভোগান্তিতে পড়েন। city’s প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের গতি ঝটপট কমে যাওয়ায় ভোগান্তি বেড়ে যায়; গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং রিকশা ও সিএনজি চালকদের বাড়তি ভাড়া দাবি করায় যাত্রীদের অতিরিক্ত খরচও ছাড়েনি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, বাতাসে জলীয় বাষ্পের ঘনত্ব বেশি থাকার ফলে গত কয়েকদিন ধরে যে ভ্যাপসা অনুভূত হচ্ছিল, আজকের বৃষ্টিতে তা অনেকটাই কেটে গেছে। তারা আরও জানিয়েছে, দেশের কিছু অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় তাপমাত্রা ভবিষ্যতে আরও কিছুটা কমতে পারে।
সাময়িক কিছু ভোগান্তি থাকা সত্ত্বেও রাজধানীবাসী এই বৃষ্টিকে অনেকেই আল্লাহর রহমত হিসেবেই দেখছেন। তীব্র গরম থেকে মুক্তি পাওয়ার আনন্দে শহরের রাস্তায়, ঘর-বাড়িতে শিহরিত একটি স্বস্তির ছোঁয়া লক্ষ করা গেছে।






