লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করার পর আরও ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে নিরাপদে দেশে ফিরেছেন। এই প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশের দূতাবাসের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় লিবিয়ায় থাকা তাদের ফিরিয়ে আনার কাজ সম্পন্ন হয়। ভোর ৬টার দিকে বেনগাজীর গ্যানফুদা ডিটেনশন সেন্টার থেকে তাদের একটি বিশেষ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানো হয়।
প্রত্যাবাসনকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে তিন নারী, একজন শিশু এবং ১৫ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি রয়েছেন। জানা গেছে, এই বাংলাদেশিরা দালালের প্রলোভনে পড়ে উন্নত জীবন খুঁজে দেশে-বিদেশে পালানোর জন্য বিভিন্ন অনিয়মিত পথ ব্যবহার করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেন। সমুদ্রপথে যাওয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে কোস্ট গার্ডের অভিযানে তাদের আটক করা হয় এবং পরে লিবিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে বন্দি থাকতে হয়।
বাংলাদেশ দূতাবাস নিশ্চিত করেছে যে, লিবিয়া সরকারের সহযোগিতায় এবং আইওএম-এর সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশিদের পরিচয় সনাক্ত ও দেশে ফিরানোর কাজ নিয়মিতভাবে চলমান। এই মাসের শুরুতে ৭ আগস্ট একইভাবে ৩৪০ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরে আসেন। এর ফলে, আগস্ট মাসে এখন পর্যন্ত মোট ৫১৪ জন বাংলাদেশি স্বদেশে ফিরতে পারেন।
এই পরিস্থিতিতে দূতাবাস আবারও সকলকে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, মানবপাচারকারী বা দালালের ফাঁদে পা দিয়ে বিপদে পড়ার কোনো দরকার নেই। নিজের ইচ্ছা ও সুবিধাজনক পথে বৈধ পদ্ধতিতে কাজের জন্য বিদেশ যাওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়। ফিরে আসা এই নাগরিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করে প্রয়োজন অনুযায়ী এলাকার শ্রমিক/শিক্ষার্থী কেন্দ্রগুলিতে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।






