আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান emphasizing the importance of skill development over monetary pursuits in the legal profession, বলেছেন, একজন সফল আইনজীবী হতে হলে অর্থের পেছনে ছুটে না, বরং নিজের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিতে হবে। তিনি এটি বলেন আজ রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি)-এর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ইউএপি’র ‘ল’ গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, দুর্নীতি বা শর্টকাট পথে দ্রুত ধনী হয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করে, মেধা, সততা, নৈতিকতা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে একজন আদর্শ আইনজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষার পদ্ধতিকে স্বচ্ছ এবং কঠোর করার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আইনজীবী হিসেবে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা। যারা এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, তারা কারো দয়া বা অনুকম্পায় নয়, বরং নিজের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে এ স্থান অর্জন করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, পরীক্ষায় কোনো নেপোটিজমের সুযোগ নেই। এমনকি, এনরোলমেন্ট কমিটির কিছু সদস্যেরই সন্তানরা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন। এ কারণে নবীন আইনজীবীদের নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার প্রতি আস্থা রাখতে হবে এবং পেশাগত জীবনে এগিয়ে যেতে হবে।
নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে শুরুতেই অনেক পরিশ্রম করতে হয়। জীবনের প্রথম দিকে কাজ ও পারিশ্রমিক কম হলেও ধৈর্য ধরে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাজের পরিধি ও পারিশ্রমিক বাড়বে। তাই শুরুতেই অর্থের পেছনে না ছুটে, নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতা গড়ে তুলতে মনোযোগ দিতে হবে।
আইনমন্ত্রী পেশাগত اخلاق ও নীতির أهمية তুলে ধরে বলেন, দুর্নীতি বা শর্টকাটের পথ অবলম্বন করে অর্থবিত্ত দ্রুত অর্জন করাটা উচিত নয়। মেধা, সততা, নৈতিকতা এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে একজন আইনজীবী তার নিজের স্থান তৈরি করতে পারেন।
সেই সঙ্গে তিনি ক্লায়েন্টের সাথে পেশাগত সম্পর্কের গুরুত্বও উল্লেখ করেন। ক্লায়েন্টই হলো ক্লায়েন্ট, তাদের সাথে পেশাগত সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে এবং পেশার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একজন আইনজীবীর দায়িত্ব শুধুমাত্র অর্থের বিনিময়ে মামলা পরিচালনা নয়। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করাও তাঁর সামাজিক ও পেশাগত দায়িত্ব। তিনি প্রত্যাশা প্রকাশ করেন, পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মামলা পরিচালনার পাশাপাশি কিছু মামলার খরচ বিনামূল্যে পরিচালনা করার জন্য আইনজীবীদের উৎসাহিত করতে।
একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি বলেন, আইনজীবীদের সবকিছুই অর্থের ভিত্তিতে বিচার করা উচিত নয়; মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা তাঁদের অন্যতম দায়িত্ব।
সেই সঙ্গে তিনি নিয়মিত পড়াশোনা ও আইনচর্চার উপর গুরুত্বারোপ করেন। আরও বলেন, আইনের মতো জ্ঞানবহুল পেশায় প্রতিদিন শেখার সুযোগ রয়েছে। বেশি পড়াশোনা করলে বেশি দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জন সম্ভব। বিশেষ করে ভালো ড্রাফটিং ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর জন্য নিয়মিত অধ্যয়ন গুরুত্বপূর্ণ।
অতঃপর, তিনি উল্লেখ করেন, দেশে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী থাকলেও তাদের প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। সরকার এই দিকটি উন্নত করার চেষ্টা করছে, যাতে আইনজীবীদের দক্ষতা বাড়ে এবং পেশাটির মর্যাদা আরো বৃদ্ধি পায়।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন আইনজীবী সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিক্ষা, মেধা, দক্ষতা, সততা ও নৈতিকতার কারণে আইনজীবী পেশা আরো মর্যাদাবান হয়ে উঠবে। তারা যেন সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হয়ে ওঠে, সেই লক্ষ্যেও নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে. এম. মজিবুল হক, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া এবং স্কুল অব ল’র ভারপ্রাপ্ত ডিন প্রফেসর ড. এম. এ. বাকি খলিলি। সভাপতিত্ব করেন ইউএপি’র ডিপার্টমেন্ট অব ল’ অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. নূর-ই মедиনা সূরাইয়া জেসমিন।
অনুষ্ঠান শেষে, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ইউএপি’র ‘ল’ গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সম্মাননাপ্রাপ্ত গ্র্যাজুয়েট এবং অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস






