বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেছে। রবিবার নয়, গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে এ ঋণচুক্তিতে সই করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহ্রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী ও জাইকা বাংলাদেশের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো। দেশি মুদ্রায় এ অনুদান প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার সমমূল্য।
ঋণটিকে ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট লোন ফর এনহান্সিং ইকোনমিক রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড স্টেবল এনার্জি সাপ্লাই’ শীর্ষক কর্মসূচির অধীনে প্রদান করা হচ্ছে। সরকারের বার্তায় বলা হয়েছে, এটি দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারকে গতি দেবে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাইকা জানিয়েছে, এই অর্থায়ন জ্বালানি জোগানে ঝুঁকি কমানো এবং বিশ্ববাজারের অস্থিরতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধশক্তি তৈরি করার লক্ষ্যে নেওয়া জাপানের ‘পার্টনারশিপ অন ওয়াইড এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস রেজিলিয়েন্স এশিয়া (POWERR Asia)’ উদ্যোগের আওতায় প্রথম ওডিএ (সরকারি উন্নয়ন সহায়তা) ঋণ। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহ-অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে নির্দিষ্ট কর্মসূচিগুলো।
ঋণ কর্মসূচির দুইটি প্রধান ভিত্তি রয়েছে — একদিকে জ্বালানি খাতের সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে অর্থনৈতিক সুশাসন ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করা। এর ফলে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণ ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এমন উদ্যোগগুলো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর টেকসই পরিচালনা নিশ্চিত করবে এবং দেশব্যাপী স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
একই অনুষ্ঠানে ইআরডি সচিব ও বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি নোট বিনিময় চুক্তিতেও স্বাক্ষর করেন, যা দুই পক্ষের মধ্যে সহযোগিতার প্রতিশ্রয়কে আরও দৃঢ় করে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার ও ভোক্তা মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মার্গে এই সহায়তা সময়োপযোগী। ইআরডির কর্মকর্তারা əlavə করে বলেন, জাইকার এই ঋণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জাপানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করবে।
মোটের উপর, জাইকার এই বড় অঙ্কের ঋণ সহযোগিতা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে নতুন গতি দান করবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার চেষ্টা দ্রুততর করবে।






