সরকার দেশের কৃষি উৎপাদন সচল রাখা এবং বাড়ন্ত জ্বালানি চাহিদা মেটাতে মোট প্রায় ১,৮১৯ কোটি টাকার সার ও এলএনজি আমদানির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে কৃষি, শিল্প ও জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পৃথক তিনটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানানো হয়েছে, মোট ৬০ হাজার মেট্রিক টন সার এবং দুই কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কফাকো (কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড) থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সংগ্রহ করবে। এটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত চুক্তির অংশ এবং প্রতিটি টনের দাম ধরা হয়েছে ৫৪০.৭৫ মার্কিন ডলার; এই চালানের মোট ব্যয় প্রায় ১৯৯ কোটি ৯৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে মোট ৩০ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সংগ্রহ করা হবে, যার একটি বড় অংশ কাফকো থেকে সরবরাহ করা হবে।
একই সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকে রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় ২১তম লটে আরও ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানি করবে। প্রতি মেট্রিক টনের দাম ধরা হয়েছে ৭১৩ মার্কিন ডলার, এবং এই চালানের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৬৩ কোটি ৬৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সারের চালানটি মূলত আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চাহিদা মেটাতে আনা হবে। বিএডিসি আগামী অর্থবছরের জন্য মোট ৯ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি আমদানির পরিকল্পনা করেছে।
জ্বালানি খাতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সিঙ্গাপুর থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের আলোকে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক) অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহের মাধ্যমে এলএনজি ক্রয় করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৪-১৫ জুলাই ২০২৬ সময়ের মধ্যে ৩১তম কার্গো এবং ২০-২১ জুলাই ২০২৬ সময়ের মধ্যে ৩৩তম কার্গো নেওয়া হবে। এই দুটির মোট ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৩৫৫ কোটি ৮২ লাখ ৭৯ হাজার ৮৯ টাকা (এআইটিসহ)। প্রথম কার্গোটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক আরামকো ট্রেডিং থেকে এবং দ্বিতীয়টি গুনভর সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে আনা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, কৃষি ও শিল্প-বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিয়মিত এই আমদানির প্রক্রিয়া বজায় রাখা হচ্ছে। মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পর এগুলো বাস্তবায়িত হলে খাদ্য ও জ্বালানি সঙ্কট নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাবার সম্ভাবনা রয়েছে এবং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরবে।






