সিয়াটেলে অনুষ্ঠিত ‘বি’ গ্রুপের সমান্তরাল ম্যাচে কাতারকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রেখেছে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। এই জয়ের ফলে বসনিয়া পূর্ণ তিন পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানের কারণে সরাসরি পরের রাউন্ড নিশ্চিত করতে পারেনি; গ্রুপে তারা তৃতীয় স্থানেই শেষ করেছে। অন্যদিকে টানা তিন হারে বিশ্বকাপ থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিশ্চিত করলো কাতার।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বসনিয়া। ২৯তম মিনিটে ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার কেরিম আলাইবেগোভিচ বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া এক দৃঢ় ও চমৎকার শটে কাতারের জালে বল জড়িয়ে দিয়ে দলের লিড এনে দেন। এই গোলের মাধ্যমে কেরিম ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার হিসেবে নাম লেখান। পাঁচ মিনিট পর, ৩৪তম মিনিটে কাতারের ডিফেন্ডার সুলতান আল-ব্রেকের আত্মঘাতী গোলে বসনিয়ার ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।
৪২ মিনিটে কাতারের অভিজ্ঞ তারকা হাসান আল হাইদোস এক সুন্দর এক গোল করে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনেন এবং হাফটাইম পর্যন্ত ম্যাচ উত্তেজনাপূর্ণ রয়ে যায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে কাতার আর কোনো মৌলিক বিপদ সৃষ্টির পরিকল্পনা করতে পারেনি। ৮০তম মিনিটে বসনিয়ার এরমিন মাহমিচ একটি গোলে স্কোর ৩-১ করে চিন্তা-নিরসন করে দেন এবং শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান বজায় রেখে মাঠ ছাড়ে ইউরোপীয় দলটি।
একই রাতে গ্রুপের আরেক ম্যাচে সুইজারল্যান্ড ২-১ গোলে কানাডাকে হারায়। গ্রুপ পর্ব শেষে কানাডা ও বসনিয়ার পয়েন্ট সমান উঠে—প্রতিটি ৪ পয়েন্ট—তবে গোল ব্যবধানের সূক্ষ্মতার কারণে কানাডা রানার্সআপ হয়ে সরাসরি নকআউটে যায়। ৪৮ দলের এ বিশ্বকাপে ১২টি গ্রুপের মধ্যে তৃতীয় স্থানধারীদের মধ্যে সেরা আটটিরাও নকআউট পর্বে উঠবে; সেই হিসাব করলে ১ জয় ও ১ ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট হওয়ায় বসনিয়ার নকআউটে যাওয়ার সম্ভাবনা এখনো বেশ জোরালো।
বসনিয়া-হার্জেগোভিনা আগে মাত্র একবার—২০১৪ বিশ্বকাপে—এই মঞ্চে খেলার সুযোগ পেয়েছিল, তখনও তারা গ্রুপ পর্বে বিদায় নিয়েছিল। এবার গ্রুপ পর্ব শেষ করে বসনিয়া অধীর আগ্রহে বাকি গ্রুপগুলোর চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকবে; অন্যান্য গ্রুপের ফলাফল তাদের অনুকূলে এলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ৩২ টিমে থাকা নিশ্চিত করতে পারবে দলটি।






