দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে অনন্য মোড় ঘুরিয়েছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো। শনিবার আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপের শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট রাউন্ডে পৌঁছেছে আফ্রিকান এই দেশটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বজায় রেখেছিল কঙ্গো। তবে মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে উজবেকিস্তানের ফরোয়ার্ড এল্ডর সমুরোদোভ গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। ১-০ পিছিয়ে থেকেও হাল ছাড়েনি কঙ্গো; তারা বিরতি ও পরবর্তী সময়ে আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে, কিন্তু উজবেকদের সুরক্ষিত রক্ষণ প্রথমার্ধ জুড়েই কঙ্গোর সুযোগ আটকে রাখতে সমর্থ হয়।
খেলার ৬৮ মিনিটে উজবেক ডিফেন্ডার আবদুকোদির খুসানোভের একটি ভুল রক্ষণ থেকে কঙ্গোকে পেনাল্টি মিললে ম্যাচের মেড় বদলে যায়। পেনাল্টি থেকে নির্ভুল শটে গোল করে স্কোর ১-১ করেন উইঙ্গার ইওয়ান উইসা। তিন মিনিট পর সিরিজে তৎপরতা বজায় রেখে কঙ্গোয়ের ফিস্তন মায়েলে দলের দ্বিতীয় গোল করে তাদের এগিয়ে দেন (৭৮ মিনিট)। যোগ করা সময়ে আবারও উইসা নিজের দ্বিতীয় গোলে দলকে ৩-১ ব্যবধানে নিশ্চিত জয় এনে দেন।
এই জয় কঙ্গোর জন্য তাৎপর্যপূর্ণ: ১৯৭৪ সালে তাদের প্রথম বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পর এটাই টিমটির সবচেয়ে বড় সাফল্য। ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে তারা তিন ম্যাচই হেরে কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছিল, সেই সঙ্গে যুগোস্লাভিয়ার কাছে ৯-০ পরাজয় ছিল দলের জন্য তিক্ত স্মৃতি। দীর্ঘ বিরতির পর এবারের আসরে কঙ্গো শুরু থেকেই ভিন্ন চিত্র দেখিয়েছে। প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের সঙ্গে ১-১ ড্র করে তারা আত্মবিশ্বাস দেখায়, আর কলম্বিয়ার বিপক্ষে হারের ব্যবধান মাত্র ১-০ ছিল।
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে আজকের জয়ে কঙ্গো গ্রুপ থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট রাউন্ড নিশ্চিত করল—একটি ইতিহাসগত অর্জন, যা দেশটিতে ফুটবলকে নতুন উৎসাহ জোগাবে।






