খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি’র তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, রূপসার পিঠাভোগকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনীচর্চার একটি সমন্বিত গবেষণাগারে রূপান্তর করা হবে। গবেষণাগার স্থাপনের জন্য যে সরকারি সহযোগিতা ও পরিকল্পনা প্রয়োজন, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য কেবল বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির অলংকার নয়; তা মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, শান্তি ও সৌন্দর্যের নীরব নির্দেশ। তাঁর কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ যুগে যুগে বাঙালির মননশীলতা ও চেতনায় আলোর দিশা দেখিয়েছে। কবিগুরুর লেখায় যে মানবিক সমাজের স্বপ্ন পাওয়া যায়—সেখানে ধর্ম, বর্ণ, জাতি কিংবা মতভেদের নামে মানুষকে বিভক্ত করা যাবে না—এটাই তাঁর সাহিত্যিক দর্শন, আশির্বাদ হিসেবে এমপি যোগ করেন।
গতকাল শনিবার রূপসা উপজেলার পিঠাভোগ রবীন্দ্র স্মৃতি সংগ্রহশালায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের আলোচ্য বিষয় ছিল ‘রবীন্দ্রনাথ ও অসাম্প্রদায়িকতা’। সভায় আলোচ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। স্মারক বক্তা ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিক্তা। উপস্থিত ছিলেন খুলনা সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) অপ্রতীম কুমার চক্রবর্তী, সহকারী কমিশনার মোঃ জাকারিয়া, জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলুসহ আরও অনেকে।
এ প্রসঙ্গে এমপি আরও বলেন, নবীন প্রজন্মকে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও দর্শনের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে পরিচিত করতে হবে, কারণ রবীন্দ্রচর্চা থেকেই একটি মানবিক, উদার ও সংস্কৃতিমনা সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তাঁর রচনাবলি কেবল আনন্দই প্রদান করে না, বরং জীবনের গভীর দর্শন ও মানবতার শিক্ষা দেয়।
এর আগে এমপি আজিজুল বারী হেলাল রূপসায় হীড বাংলাদেশ, খুলনা অঞ্চলের আয়োজনে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা বৃত্তি বিতরণ ও মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। কাজদিয়া সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হীড বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য রোজলীন অর্পিতা সরদার। সভাপতিত্ব করেন হীড বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার হোসেন এবং সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনায় ছিলেন মাইক্রো ফাইন্যান্স উপ-পরিচালক আদিত্য কুমার বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে মোট ৭১ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা বৃত্তি হিসেবে প্রদান করা হয়।






