আসন্ন ঈদুল আজহা ঘিরে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে উৎসবের আমেজ তেজস্বী হয়ে উঠেছে। কয়েক দিন আগের অনিশ্চয়তার পর শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি বদলে গিয়ে এবার একসাথে ছয় নয়, পাঁচটি বড় বাজেটের ছবি একত্রে মুক্তির ঘোষণা পেয়েছে, ফলে ঈদের সিনেমা তালিকা হয়ে উঠেছে একটু বেশি নাটকীয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ছবির পোস্টার, টিজার ও ট্রেলার শেয়ার করে দর্শক-ভক্তরাও উসকে দিয়েছে আগ্রহ—ফলত: দর্শকদের মধ্যে সবে থেকেই উন্মাদনা ছড়িয়েছে।
এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন মেগাস্টার শাকিব খান অভিনীত রকস্টার। আজমান রুশো পরিচালিত ও সান মোশন পিকচার্স লিমিটেড প্রযোজিত এই চলচ্চিত্রটি সেন্সর বোর্ড থেকে ‘ইউ’ সার্টিফিকেট পেয়েছে। একজন রকস্টারের উত্থান-পতনকে নিয়ে গল্পটি নির্মিত; শাকিব খানকে নিয়ে পর্দায় দেখা যাবে সাবিলা নূর, তানজিয়া জামান মিথিলা এবং সুনিধি নায়েককে। গান, দৃশ্য এবং শাকিবের চরিত্রভঙ্গি নিয়ে ভক্তদের মধ্যে খুশির জোয়ার লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অন্যদিকে অ্যাকশন ঘরানায় দর্শককে টানবে আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিমের ‘মালিক’। সাইফ চন্দন পরিচালিত ছবিটি অপরাধ জগতের ক্ষমতার ওঠা-নামা এবং পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে নির্মিত; প্রচন্ড অ্যাকশন ও আবেগের মিশেলে এটি প্রেক্ষাগৃহে দাপট দেখাতে চাইছে।
দৃশ্যপটে আরও একটি আকর্ষণীয় নাম মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’—যার আগের কাজ ‘হাওয়া’ দর্শক ও সমালোচকদের নজর কেড়েছে। নাজিফা তুসি ও মোস্তাফিজুর নূর ইমরান অভিনীত এই ছবিটি আন্তর্জাতিক পরিসরে ইতোমধ্যে প্রশংসা পেয়েছে; এর গানগুলোও সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ফলে এখন সাধারণ দর্শক কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা নজরদারি করার মতো।
ঈদে দেশের একটি বিশেষ টানও দেখা যাচ্ছে সাহিত্যের সহজাত শক্তিকে বড়পর্দায় নিয়ে আসার দিকে। কবি জীবনানন্দ দাশের কালজয়ী চরিত্র নিয়ে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ‘বনলতা সেন’ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে মুক্তি পাচ্ছে। মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পরিচালিত ছবিতে জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে খায়রুল বাসার এবং শিরোনাম ভূমিকায় মাসুমা রহমান নাবিলা অভিনয় করেছেন। সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে এ ছবি দেখার উন্মাদনা স্পষ্টতই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আরেকটি জনপ্রিয় বাণিজ্যিক খাতের নাম ‘মাসুদ রানা’—সেবা প্রকাশনীর বিখ্যাত থ্রিলার চরিত্র অবলম্বনে সৈকত নাসির নির্মিত এ ছবিটিও ঈদে মুক্তি পাচ্ছে। এতে অভিনয় করেছেন রাসেল রানা ও পূজা চেরি; এ ছবির জন্যও দর্শকদের আগ্রহ লেভেল বেশ উঁচু।
এই পাঁচটি বড় প্রযোজনার পাশাপাশিই তালিকায় আছে নাকফুলের কাব্য, পিনিক ও তছনছসহ আরও কয়েকটি ছবি। এতগুলো সিনেমা একসাথে মুক্তি পাওয়ায় থিয়েটার মালিকরা যেমন কৌশল গড়ছেন কক্ষ বণ্টন ও শো-সময় ঠিক করতে, তেমনি দর্শকদের জন্যও বাছাইয়ের বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে। ঈদের ছুটিতে দর্শকাদির ভাষা কোন ছবিটি সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য হবে এবং শেষ পর্যন্ত ব্যবসায় সাফল্য কাকে মেলে—এটাই এখন দেখার বিষয়। মোটের উপর, এই রকম প্রতিযোগিতা ঢালিউডের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে এবং আগামী সময়ে ব্লকবাস্টার তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়িয়েছে।






