ঈদুল আজহার ছুটি শেষ করে মাঠে ফিরেছে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ (ডিপিএল)। লিগের অষ্টম রাউন্ডে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবকে ১৭৩ রানের মাধ্যমে বিধ্বস্ত করে বড় জয় নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেড। তবে জয়ের পেছনের আনন্দের চেয়েও বড় চমক ছিল সারা দেশের আলোচিত পেসার মুস্তাফিজুর রহমান যে মোহামেডানের বদলে আবাহনী দলে যোগ দিলেন। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা গুঞ্জনের পর মোহামেডিজাতের সম্ভাব্য ডাক শেষমেষ বাস্তবে পরিণত হয়নি; বদলে তিনি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আকাশী-নীল শিবিরে লিখলেন নাম।
ক্লাব সূত্র জানায়, মুস্তাফিজকে আগামী ৫ জুন শুক্রবার নবম রাউন্ডের লিগ ম্যাচে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিরুদ্ধে দলে পাবেন তারা। তবে জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচির কারণে আবাহনী তাকে বেশি দিন ধরে ধরে রাখতে পারছে না। জুনের ৯ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজকে সামনে রেখে জাতীয় দলে তার জায়গা প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। তাই জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আগে ডিপিএলের মাত্র এক ম্যাচেই দেখা যাবে এই কাটার মাস্টারকে।
গতকাল বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় আবাহনী। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে তারা ৩১৫ রান সংগ্রহ করে, যা প্রতিপক্ষের জন্য সত্যিই পাহাড়সম লক্ষ্য দাঁড় করায়। দলের সংগ্রহকে বড় করে তুলেছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন — ৯৫ বলে অপরাজিত ১০২ রানের ব্যতিক্রমী ইনিংসে তিনি দলের স্বস্তিদায়ক ভিত্তি তৈরি করেন। অঙ্কনের দুর্দান্ত ব্যাটিং ছাড়া এই বড় সংগ্রহ সম্ভব হতো না।
টার্গেট পেছনে নামার পর গুলশান ইনিংস শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে। ওপেনিং জুটিতে ৪৫ রান ওঠার পর দ্রুতই দুই ওপেনার রহমতউল্লাহ আলী ও আলিফ ইমন বিদায় নেন এবং এরপর থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ে। কোনো ব্যাটারই দীর্ঘ ইনিংস খেলতে না পেরে গুলশান মাত্র ১৪২ রানে অলআউট হয়ে যায়। আবাহনীর হয়ে নাইমুর রহমান নয়ন ৩টি উইকেট নেন, আর রাকিবুল হাসান ও এস এম মেহেরব হোসেন ২টি করে উইকেট নেন — ফলে দলটি বড় জয় নিশ্চিত করে।
এই ১৭৩ রানের জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে আবাহনীর অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। মুস্তাফিজের মতো অভিজ্ঞ পেসারের অন্তর্ভুক্তি যদিও সীমিত পর্যায়ের (শুধু এক ম্যাচ) হবে, তবু একটি ম্যাচেই তার উপস্থিতি দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং চলমান টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়টির ফর্ম ফিরে আসা জাতীয় দলকেও উপকৃত করবে। প্রিমিয়ার লিগের এই পর্যায়ে প্রতিটি পয়েন্টই গুরুত্বপূর্ণ; তাই লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে আগামী ম্যাচ জিতাই এখন আবাহনীর প্রধান লক্ষ্য।
ফুটব্রেকিং হিসেবে বলা যায়, মুস্তাফিজের আবাহনীতে অন্তর্ভুক্তি শুধু ক্লাব পর্যায়ে নয়—মাঠে দর্শক এবং সমর্থকদের জন্যও বড় উৎসাহের সংবাদ। আগামী ম্যাচে তার উপস্থিতি কেমন ফল বয়ে আনে, সেটাই এখন ক্রিকেট ভক্তদের নজর কাড়ছে।






