চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি টানা নবম জয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শেষ করল। শনিবার শিকাগোর সোলজার ফিল্ডে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে Gastgeber যুক্তরাষ্ট্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে জার্মানরা নিজেদের শেষ মুহুর্তের পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। গ্যালারিতে উপস্থিত ছয় হাজারেরও বেশি নয়—৬৩ হাজারের বেশি দর্শক মাঠে এ দুর্দান্ত লড়াই দেখেছেন। আগামী ১৪ জুন কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে বিমান ছাড়ার আগে এটি জার্মান দলের শেষ প্রস্তুতি পরীক্ষা বলা চলে।
ম্যাচের মাত্র দ্বিতীয় মিনিটে কাই হ্যাভার্টজের নিখুঁত ফ্রি-কিক থেকে উঠা হেডেই জার্মানি এগিয়ে যায়। দ্রুত গোল পাওয়ায় ম্যাচের শুরু থেকে টিমটির আক্রমণাত্মক মনোভাব আরও স্পষ্ট হয়। কিন্তু বাড়তি সময় ধরে চাপ সইতে না গিয়ে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ৩৭ মিনিটে সমতা ফিরে আনে—ক্রিস্টিয়ান পুলিসিকের করা কর্নার থেকে আসে বল, এবং ডিফেন্ডার অ্যান্টনি রবিনসন বাঁ পায়ের চমৎকার ভলিতে গোলটি করে ম্যাচকে ১-১ করে দেয়। বিরতিতে মাঠে এবং গ্যালারিতেই উত্তেজনা টানটান ছিল।
দ্বিতীয়ার্ধে জয়ের জন্য বেশ আক্রমণাত্মক সজ্জায় নামে জার্মানি। ৫৭ মিনিটে লারয় সানে গড়ান দলকে আবারো এগিয়ে—হ্যাভার্টজের ছোট পাসকে নিয়ন্ত্রণ করে সানে মাইলস রবিনসনের দু’-পায়ের মধ্য দিয়ে শট করে বল জালে জড়ান এবং স্কোর ২-১ হয়। এই গোলে ম্যাচের ফলও প্রায় চূড়ান্ত হয়ে যায়। জয়টি জার্মান দলের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চিন্তার কারণও হয়ে দাঁড়ায়: ২০২২ সাল থেকে ইউরোপীয় দলগুলোর বিরুদ্ধে এটি যুক্তরাষ্ট্রের টানা নবম পরাজয় বলে রেকর্ডে নাম উঠেছে, পাশাপাশি বিশ্বকাপ শুরুর আগে দীর্ঘ সময় ধরে অপরাজিত থাকার আমেরিকান রেকর্ডেও ছেদ পড়েছে বলে বলা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র এবারের বিশ্বকাপের আয়োজনকারী হিসেবে দুর্বল সময় কাটিয়েছে না—ঘরের মাঠে প্রত্যাশা ছিল ব্যাপক—তবে এই হারের ফলে স্থানীয় দর্শকদের মধ্যে কিছুটা হতাশা দেখা গেছে। তবু সময় আছে—শুধরেই নেওয়ার সুযোগ রয়েছে; দলের নজর এখন প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে গ্রুপ স্টেজের প্রথম ম্যাচে। আমেরিকার গ্রুপে তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়া উপস্থিত থাকায় এই প্রস্তুতি ম্যাচগুলো তাদের দুর্বলতা ও শক্তি চিহ্নিত করে কৌশল সাজানোর সুযোগ দিয়েছে।
জার্মান দলের ইতিহাস ও মনোবলও আলোকপাত যোগ্য: ২০১৪ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া এই দলটি গত দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্যায়ে বিদায়কে কেন্দ্র করে বড় ধাক্কা খেল। এবার কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের অধীনে তারা বেশি সুশৃঙ্খল ও সামঞ্জস্যপূর্ণ ফুটবল খেলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। টানা নয় ম্যাচে জয়ের মাইলফলক দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে জয় থেকে যদি তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হয়, তবে শিরোপার দৌড়ে তাদের অবস্থান আরও শক্ত হতে পারে।
ম্যাচটি কেবল রেজাল্ট নয়—উভয় দলের জন্য কৌশলগত পরীক্ষা ছিল। জার্মানি তাদের আক্রমণাত্মক গতি ও শেষ করা ঝুঁকি দেখিয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি সতর্কবার্তা যে বিশ্বকাপের মতো বড় স্টেজে উঠার আগে সমন্বয় ও প্রতিরক্ষা উন্নত করতে হবে। দুই দলেরই সামনে সময় আছে—এখন তা ব্যবহার করে ত্রুটি শুধরে মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করতেই হবে।






