বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে অজিদের বিপক্ষে ওয়ানডে জয়ের মানে যে মুহূর্তগুলো আলাদা, তা আবারও প্রমাণ করল মঙ্গলবার মিরপুরে ঐতিহাসিক এক জয়। ২১ বছরের প্রতীক্ষা টপিয়ে বাংলাদেশের টাইগাররা অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আবারো জয়জয়কার করতে পারে—আর এই দারুণ ফলাফলের সঙ্গে এক বিশেষ আবেগের যোগ হয়েছে মোহাম্মদ আশরাফুলের জন্য।
মিরপুরের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে ২৮৪ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ গড়ে। দীর্ঘ চার বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরেই মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত লড়াইটা শক্ত করে তুলেছেন—তিনি অপরাজিত ৮৬ রানের এক সেরা ইনিংস খেলেন এবং দলের ভিত্তি মজবুত করেন। জবাবে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়া দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে; নাহিদ রানার, মুস্তাফিজুর রহমানের ও মোসাদ্দেকের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে তারা নিয়মিত চাপে পড়ে। ৪২.২ ওভারে অস্ট্রেলিয়া দাঁড়ায় ১৯১/৯-এ, তখনই বৃষ্টি পড়ায় খেলা বন্ধ হয়ে যায় এবং ডি/এল মেথড অনুযায়ী বাংলাদেশকে ৮৬ রানের জয় ঘোষণা করা হয়।এই জয়ে টাইগারদের আত্মবিশ্বাস এক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
এই জয়টি বিশেষ করে জরুরি কারণ ২০০৫ সালের সেই স্মরণীয় দিনে কার্ডিফে কলঙ্কিত অজিদের বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ওয়ানডে জয়ের স্বাদ পায়। ১৮ জুন ২০০৫-এ রিকি পন্টিং নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ২৫০ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে গিয়ে আশরাফুল সেঞ্চুরি করেন এবং অধিনায়ক হাবিবুল বাশারের ৪৭ রানের সমর্থন, শেষে আফতাব আহমেদের ঝড়ো ক্যামিও মিলিয়ে ৫ উইকেটে ইতিহাস গড়া হয়েছিল। আজ সেই রূপকথার নায়ক ডাগআউটে কোট পরিহিত অবস্থায় দেশের বর্তমান ক্রিকেটারদের পরামর্শ দিচ্ছেন—এটি নিজেদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণার বিষয় বলে ক্রিকেটারা জানিয়েছে।
খেলাটির পর সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন এক বার্তায় আশরাফুল লেখেন, খেলোয়াড়জীবনের সেই সোনালি স্মৃতি ও এখন কোচ হয়ে দলের সঙ্গে থাকা—দুটি ভিন্ন অধ্যায় হলেও দেশের জন্য গর্বের অনুভূতি ঠিক আগের মতোই টিকে আছে। তিনি বর্তমান দলের আত্মবিশ্বাস ও লড়াকু মানসিকতায় প্রশংসা জানিয়ে আরও ভালো ফলের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন এবং ভক্তদের কাছে দোয়া চেয়েছেন যেন দল ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে।
এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের আশা আরও বড়। ব্যাটিং কোচ হিসেবে আশরাফুল তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে অজিদের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। ২০০৫ সালের কার্ডিফ থেকে মিরপুর পর্যন্ত যে ঐতিহ্য চলছে, সেটি নতুন উদ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আরও বড় লক্ষ্য ছুঁতে প্রেরণা দিচ্ছে।






