জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সোমবার সংসদ ভবনস্থ তার কার্যালয়ে চীন ও সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে সৌজন্য সাক্ষাতে অভ্যর্থনা জানান। সাক্ষাৎকালে তিনি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের — বিশেষ করে বরগুনাকে কেন্দ্র করে — অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পরিকল্পিত বিনিয়োগ, আধুনিক অবকাঠামো ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম জরুরি বলে অভিমত প্রকাশ করেন।
চিফ হুইপ জানান, প্রাকৃতিক সম্পদ ও কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দক্ষিণাঞ্চল অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হওয়া সত্ত্বেও পর্যাপ্ত শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের অভাবে সেই সম্ভাবনার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি বলেন, যদি বরগুনায় সুশৃঙ্খল বিনিয়োগ ও আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা যায়, তবে এই অঞ্চল শুধু দক্ষিণাঞ্চলের নয় — সমগ্র দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হবে।
সাক্ষাৎকালে বরগুনা জেলার সার্বিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাত নিয়ে গভীর এবং ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। প্রধান আলোচ্যসূচির মধ্যে ছিল আন্তর্জাতিক মানের ব্যবসায়িক হাব স্থাপন, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে সৌরশক্তি খাতের উন্নয়ন, আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং শিল্পের সম্প্রসারণ, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিকরণ।
বক্তৃতায় চিফ হুইপ গভীর সমুদ্র বন্দরের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলেন, ব্লু ইকোনমির সুবিধা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হলে আধুনিক বন্দর অবকাঠামো অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, একটি কার্যকরী গভীর সমুদ্রবন্দর আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে গতিশীল করবে, পরিবহন ব্যয় কমাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা বাড়াবে।
চীন ও সিঙ্গাপুরের প্রতিনিধিদল গভীর সমুদ্রবন্দর ও সংশ্লিষ্ট লজিস্টিকস উন্নয়নে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় আগ্রহীতা জানান। তাদের মতে, বরগুনার ভৌগোলিক অবস্থান, উপকূলীয় নিকটত্ব এবং সম্ভাব্য যোগাযোগ উন্নয়ন এটিকে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত করতে পারে। আন্তর্জাতিক মানের ব্যবসায়িক হাব প্রতিষ্ঠা হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ সহজ হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষত সৌরশক্তি সম্পর্কে চিফ হুইপ বলেন, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের জন্য সৌর ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎসে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। উপকূলীয় অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় সম্ভাবনা আছে এবং এ খাতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও বিদেশি বিনিয়োগ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে পারে। সৌরশক্তিতে নির্ভর করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে উঠলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
ডিজিটাল অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী বড় সম্পদ; তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করলে আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বিশাল কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। প্রতিনিধিদল বরগুনায় আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, প্রযুক্তি ইনকিউবেশন সেন্টার ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি স্থাপনে আগ্রহ জানায় এবং সেখানে দ্রুতগতির ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের ওপর চিফ হুইপ জোর দেন। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি ও সমসাময়িক উন্নয়ন শিক্ষার অগ্রগতির সঙ্গে ছেঁকে চলে—শিক্ষাকে শুধু সনদ অর্জনের সীমায় আবদ্ধ না রেখে দক্ষতা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সঙ্গে মিলিয়ে গড়ে তুলতে হবে। প্রতিনিধিদলও প্রযুক্তি শিক্ষা, ভাষা শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে।
সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে সম্ভাব্য প্রকল্প নিয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনার অঙ্গীকার করেন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।






