গুয়াদালাহারার গরম সকালে অনুষ্ঠিত বাঁচা-মরার এই ম্যাচে উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছেন তরুণ মিডফিল্ডার অ্যালেক্স বায়েনা, যা তার ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ গোল হিসেবে নথিভুক্ত হলো।
পুরো ম্যাচে দুই দলই কখনো পূর্ণ আক্রমণ, কখনো আবার রক্ষণে নামতে দেখা গেল; কোনোটাই তাদের পরিচিত সেরা ছন্দটা ধরে রাখতে পারছিল না। স্পেন বলের দখলে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধে পরিষ্কার গোলের সুযোগ খুব বেশি তৈরি হয়নি। ৪২ মিনিটে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত আসে — ডান থেকে মার্কোস লোরেন্টের বাড়ানো পাস বক্সে পেয়ে অসাধারণ জোরের শট নেন ২৪ বছর বয়সী বায়েনা। উরুগুয়ের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফের্নান্দো মুসলেরা দুই হাতে ধরে রাখার চেষ্টা করলেও গ্লাভস ফসকে বল জালে ঢুকে যায়।
পাক্কা গোলের মাত্র তিন মিনিট পর উরুগুয়ের সামনে বড় ধাক্কা আসে। নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার মানুয়েল উগার্তে হাঁটুর চোটের কারণে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। প্রথমার্ধে গোল হজমের পরে পরিবর্ত হিসেবে আবার মুসলেরা নামাননি কোচ মার্সেলো বিয়েলসা; তাঁর বদলে মাঠে যান সের্হিও রোচেত।
দ্বিতীয়ার্ধে স্পেন আরও পরিকল্পিত আক্রমণ চেষ্টা করলেও সুযোগটা আরও বাড়াতে পারেনি। ৬৩ মিনিটে দানি ওলমোকে দীর্ঘ সময়ের বর্ণিত সম্ভবনা গুলো মিস করতে দেখা যায় — লামিন ইয়ামালের চমৎকার পাস থেকে ফাঁকে বল পেয়ে তিনি পোস্টের ওপর দিয়ে শটটি উড়িয়ে দেন, যা স্পেনের জন্য বড় সুযোগ হাতছাড়া হিসেবেই রয়ে গেল।
ম্যাচের শেষ পর্যায়ে দুই দলই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে ম্যাচটিকে উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে। ৮৬ মিনিটে উরুগুয়ের বদলে নেওয়া খেলোয়াড় দে লা ক্রুসের বিপজ্জনক শট চমৎকার সেভ করে দেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন। পরের সেকেন্ডেই কাউন্টার অ্যাটাকে স্পেনের ফেরান টোরেস একবার বক্সে ঢুকেও শটটি ক্রসবারে লেগে ফিরে যাওয়ায় গোল বঞ্চিত হন।
সংযোজিত সময়ে উরুগুয়ের ফেদেরিকো ভিনাস যখন স্পেনের বক্সে পড়ে যান, ততক্ষণে রেফারিকে দিকনির্দেশ করে পেনাল্টির জোরালো দাবি জানায় উরুগুয়ে — কিন্তু তা মানা হয়নি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে স্পেনের ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সিকে মারাত্মক ফাউল করলে উরুগুয়ের কানোবিওকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি, যা উরুগুয়ের জন্য খারাপ পরিস্থিতি আরও কঠোর করে তোলে।
এই ফলেই তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ছয় নয়, সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তার নেতৃত্বে স্পেন। অপরদিকে তিনটি ড্রয়ে তিন পয়েন্ট করে নিয়ে গ্রুপ সেকেন্ড স্থান ধরে রেখে ইতিহাস গড়েছে আফ্রিকার খানিকটা নতুন প্রতিপক্ষ কেইপ ভার্ড। মাত্র দুই পয়েন্ট করে পাওয়ার কারণে উরুগুয়ে ও সৌদি আরব দু’দলই টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্যায়েই বিদায় নিল।
স্পেন এখন নকআউট পর্বে আত্মবিশ্বাস নিয়ে যাচ্ছে, আর উরুগুয়ে-প্রশংসকরা তাদের দেশের জন্য কঠোর প্রশ্ন উত্থাপন করবেন যে কীভাবে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে গ্রুপ পর্বেই বিদায় নিতে হলো।






