গ্রুপ ‘কে’-র নির্ধারণী ম্যাচে ফ্লোরিডার মিয়ামি গার্ডেন্সে মুখোমুখি হয়ে ০-০ গোলে ড্র করেছে ইউরোপীয় জায়ান্ট পর্তুগাল ও লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী দল কলম্বিয়া। এই ফলের ফলে তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রে নিয়ে ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করে কলম্বিয়া গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়। পর্তুগাল সমান ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে রানার্স-আপ হয়ে নকআউট পর্বের শেষ ৩২-এ ওঠে, আর কঙ্গো ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থান থেকে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছে।
গোলশূন্য ফেরিওয়াকেও ম্যাচটি ছিল রোমাঞ্চকর ও আক্রমণাত্মক। বলের দখলে তুলনামূলকভাবে এগিয়েছিল কলম্বিয়া — তারা ম্যাচে ৫৫% পজেশন নিয়ন্ত্রণ করে। কলম্বিয়ার স্ট্রাইকাররা মোট ২৪টি শট টেনে পর্তুগালের দায়িত্বশীল রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করেছিল, যার মধ্যে ৬টি শট ছিল লক্ষ্যে। অনুরোধে পর্তুগালও কন্ট্রা অ্যাটাকে সফল ছিল এবং মোট ১৩টি শট নেয়, যার ২টি অন-টার্গেট। দর্শকজনোচ্ছল এই গতিময় লড়াইতে দুদলই আক্রমণেরই অপেক্ষাকৃত বেশি সুযোগ তৈরি করে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে পর্তুগালের মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্দেজ একবার খুব কাছ থেকে গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু কলম্বিয়ার অভিজ্ঞ গোলরক্ষক কামিলো ভারগাস চমৎকার সেভ করেন। অন্যদিকে পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তাও ম্যাচে শক্তি দেখান — তিনি মোট ৬টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন, যা এই টুর্নামেন্টে তার প্রথম দুই ম্যাচের মোট সেভের চেয়েও বেশি।
দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকেও উত্তেজনা তুঙ্গে ছিল: কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার ডেভিনসন সাঞ্চেজ বল জালে জড়ো করে উল্লাস ফোটালেও রেফারি অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল করে দেন। ওই মুহূর্তেই ম্যাচের ভাগ্য চূড়ান্তভাবে সমান হয়ে আসে।
এই ফলের মধ্য দিয়ে ৪৮ দলের বর্ধিত বিশ্বকাপের শেষ ৩২-র রোডম্যাপ অনেকটাই চূড়ান্ত হয়েছে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন কলম্বিয়া ‘এল’ গ্রুপ থেকে সেরা তৃতীয় হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করা ঘানার মুখোমুখি হবে; ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় ৪ জুলাই সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, ঘানা তাদের শেষ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হয়েছিল।
অপরদিকে পর্তুগাল রানার্স-আপ হয়ে নকআউট পর্বে কঠিন প্রতিপক্ষ পেয়েছে — তারা ‘এল’ গ্রুপের রানার্স-আপ ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে ৩ জুলাই ভোর ৫টায় টکراবে। উভয় ম্যাচেই দর্শকরা আবারও ভোলার যোগ্য উত্তেজনা দেখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।






